অফিস ডেস্কঃ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে ‘টেকসই ক্যাম্পাস উদ্যোগ’ বিষয়ক এক ব্যতিক্রমী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা এলাকার মেঘবাড়ি রিসোর্টে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ১২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেসমিন আক্তারের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমার সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তাহমিনা আওয়াল।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রভাষক জুবায়ের আহমেদ। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু। এছাড়াও কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ছৈলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হাসান, বোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশনারা ডলি, দেওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ সাথী, জামালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম, বালীগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেশমা বেগম, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর মিয়া এবং সাংবাদিক আল-আমিন দেওয়ান।
বক্তাদের মূল বক্তব্য:
"আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি সমৃদ্ধ, পরিচ্ছন্ন ও সম্ভাবনাময় জাতি গঠন করতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।"
বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষকে আকর্ষণীয় ও চিত্তাকর্ষক করা, নোট-গাইড বইয়ের নির্ভরশীলতা হ্রাস করে প্রতিদিনের পাঠ শ্রেণিকক্ষেই নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। একই সাথে শিক্ষক-অভিভাবক মতবিনিময়, হোম ভিজিট এবং নিয়মিত শ্রেণি পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি প্রসঙ্গে বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাগান করা এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তিমুক্ত রেখে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বিদ্যালয়কে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান কর্মশালা শেষে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়কে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।