অথই নূরুল আমিন
আজকে দেশের খুবই নাজুক অবস্থা। যেমন চলছে অর্থনৈতিক মন্দা ভাব, তেমনি বেড়ে যাচ্ছে নিত্য পণ্যের দাম। আইনশৃঙ্খলায় চরম অবনতি। খুন ধর্ষণ ছিনতাই ডাকাতি চুরি বেড়েই চলছে। দেশে কোন সরকার আছে বলে জনগণ আজকে আর মনেই করছে না। সরকারের ছয় মাস হয়ে গেলো। এর মধ্যে জনগণের কল্যাণে একটা কাজও সঠিকভাবে করতে পারেনি। উদুর পিন্ডি বুধুর গাড়ে চাপানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ জনগণের উদ্দেশ্যে ভালো কোন বার্তাও দেয়া হচ্ছে না। এদিকে বিরোধী দল তারাও গত দুদিন আগে জনগণের পক্ষ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে কিছু বলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে ও সরকারের তালবাহানা উত্তর পাওয়া গেছে বিধায় বিরোধী দলীয় এমপিরা ওয়াকআউট করেছেন মর্মে খবরে জানতে পারলাম। তবে বিরোধী দলের এমপিরা সরকারের সমালোচনা করলেই কি সমাধান হয় সবকিছু? না হয় না। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আগে বিভিন্ন দাবি জানানো উচিৎ। যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আইনশৃঙ্খলাসহ ইত্যাদি। তার পরবর্তী অধিভেশনে বিরোধী দল সরকার দলীয় মন্ত্রীদের কাছে জানতে চাইবেন। তারা কতটুকু কি করেছেন। কিছু দাবি না জানিয়ে শুধু শুধু বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়া মানে একধরনের বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। অন্যদিকে আমাদের দেশের সরকারি দল মানেই বিপদগামীর মত অবস্থা। ক্ষমতার দাপটে তারা দেশের তেমন খবরই রাখেন না। ছয় মাস পার হয়ে যাওয়ার পরেও আজও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মন্ত্রী রদবদলের পালা চলছে। এএসডি, ডিমোশন, প্রমোশন নিয়েই বেশিরভাগ সময় সরকার পার করছেন বলে আমার ধারণা। দেশের সাড়ে তিনশ এমপি সংরক্ষিত আসনসহ। অথচ স্থানীয় জন প্রতিনিধি অসংখ্য সিটি পৌরসভা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত। তাহলে এমপিরা কার সাথে কাজ করছেন? না উনারা কেউ কোন কাজ করছেন না। এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও তেমন চাপ নেই সরকারের প্রতি স্থানীয় নির্বাচন দেয়ার জন্য। এখানে ও দেশের অসংখ্য জনগণ বিভিন্ন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত। খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ অর্থনৈতিকভাবে খুবই কষ্টে আছে। ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে অনেকেই। গ্যাস এবং বিদ্যুত সমস্যার কারণে আরেক শ্রেণি বেকার হতে চলেছে। এহেন অবস্থায় যদি আজকে সরকারি কর্মকর্তারা একযোগে কর্ম বিরতি ঘোষণা করে। সেখানে সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া তেমন কোন উপায় দেখছি না। কথা থাকে যে, একটি সরকার পতনের জন্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অসংখ্য পথ খোলা থাকে। এদিকে বিরোধী দলের কথা যদি বলি। সরকারের ভুল হবে বা সরকার বিভিন্ন কাছে ব্যর্থ হবে। আর এসব ভুল আর ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধী দল সংসদ অধিবেশনে এসে জনগণের ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করে বিরোধী দলীয় এমপিরা পুরাতন কাসুন্দি ঘাটবে। এরকম তো হতে পারে না। একটি দল ও কিন্তু জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়েছেন। তাহলে সব দোষ সরকারের এমনটি হতে পারে না। বিরোধী দলেরও উচিৎ সরকারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা। পরিশেষে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ আরো যোগ্য পরামর্শদাতা নিয়োগ দেয়া। প্রয়োজনে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তির ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগ দেয়া। আমার দৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর যথেষ্ট যোগ্য উপদেষ্টা অনেকেই নন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যদি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ বা বিশেষ সহকারিগণেরা মিডিয়ায় প্রচার করেন ৬৬% জনগণ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এগুলো হলো হাস্যকর। কাজের কাজী যারা তাদের কোন জরিপ করতে হয় না। কথায় আছে দুদিনের চাঁদ ঘরে বসেই দেখা যায়।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা (গ্রন্থ লেখক)।