অফিস ডেস্ক :
১৯১৮সনে চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহের গৌরীপুর জংশন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যাত্রীদের বিশ্রামগার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। পুরো স্টেশন জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে ময়লা-আবর্জনা। রেললাইনের মাঝে স্তুপাকার হয়ে আছে আবর্জনা। দুর্গন্ধে স্টেশনে প্রবেশ করাই কষ্টসাধ্য আর যাত্রীদেরকেও মল-মূত্র মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১মার্চ/২৬) জংশনের ভিতরে পরিস্কার করতে দেখা যায় ভবঘুরে ৪০ঊর্ধ্ব এক ভারসামীহীন প্রতিবন্ধী। তার নাম আবুবক্কর। তিনি নিজের মনের মাধুরী মেশিয়ে গান করছেন আর রেললাইনে পরে থাকা ময়লা-আবর্জনা তুলে স্টেশন পরিস্কার করছেন। স্টেশনের জয়নাল আবেদিন জানান, প্রায় ৪/৫মাস ধরেই এ ভবঘুরে বিনাদাশে ও বিনাপারিশ্রমিকে স্টেশনের ময়লা-আবর্জনা তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তিনি পরিস্কার করছেন। তার বাড়ি উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের শালীহর গ্রামে। শাহবাজপুর গ্রামের আব্দুর রউফ দুদু জানান, আবকর নিজের খেয়াল-খুশি মতো চলেন। সে দোকানপাটে গেলেও সেখানে ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করতে দেখা যায়। এলা বাসী তাজুল ইসলাম বলেন,,
গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সফিকুল ইসলাম বলেন,, ঝাড়ুদার-সুইপারপদে এ জংশনে ৬জনের মধ্যে মাত্র ১জন কর্মরত আছেন। তার নাম শিউলী রানী পাল। তার একার পক্ষে তো ৬জনের কাজ করা সম্ভব না। এরপরেও আমরা চেস্টা করছি বিভিন্ন সহযোগিতার মাধ্যমে স্টেশনকে পরিচ্ছন্ন রাখতে। বর্তমান অবস্থার বিষয়টিও আমরা উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তিনি আরও জানান, স্টেশনে পানি সাপ্লাই ত্রুটিযুক্ত থাকায় আরও অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে।
স্টেশনের একাধিক দোকানদার ও যাত্রী অভিযোগ করেন, শিউলী রানী পালকে কখনও প্লাটফরম বা জংশনে ঝাড়ু দিতে দেখি নাই। একজন আছে জলিল, আরেকজন আছে আবকর ওরা ভবঘুরে। ওরা ওদের মতো পরিস্কার করে। তবে পরিচ্ছনতা কর্মী হিসাবে বেতন নিচ্ছেন শিউলী রানী পাল।
জংশনের ২য় শ্রেণির যাত্রীর বিশ্রামাগার হয়ে উঠেছে ‘আবর্জনার ডাস্টবিন।’ ভিতরে যেনো প্রবেশ করাই অত্যন্ত কষ্টকর। প্রথম শ্রেণি ও সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামাগারের সামনেও ময়লার স্তুপ। এক নম্বর ও দুই নম্বর রেললাইনে মাঝে অঘোষিত ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। স্টেশনের চা দোকানীদের আবর্জনা ফেলছেন দুই নম্বর রেললাইনের পাশেই। তিন নম্বর রেললাইন ও প্লাটফরমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। পুরাতন ভবনের পিছনে বাথরুমের মল-মূত্র ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো প্লাটফরমে। এসব পায়ে মাড়িয়েই যাত্রীদের উঠতে ও নামতে হচ্ছে ট্রেন থেকে। স্টেশনের আরেক দোকানদার জানান, যাকে ঝাড়ুদার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তিনি বিএ পাশ। সত্যিকার অর্থে তিনি এ কাজ করতেও আগ্রহী নন।
এ প্রসঙ্গে শিউলী রানী পাল জানান, তাকে মূলত পোর্টার পদে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিলো। ৩মাসের জন্য তাকে এ স্টেশনে টিএলআর (চুক্তিভিত্তিক মাস্টাররোল) হিসাবে পাঠায়। চুক্তিভিত্তিক মাস্টাররোলে তাকে ঝাড়ুদার হিসাবে কাজ দিলেও তিনি মূলত এ কাজের জন্য যাননি। এ স্টেশনে ২০২৫ সনের ১ সেপ্টেম্বর তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। শুরুতে দু’জন থাকলেও তিনি এখন একা। তারপরেও তিনি অফিসের ভিতরে যেসব পরিস্কার করতে হয় সেগুলো করছেন। বাহিরে তিনি ঝাড়ু দেননি। আর প্লাটফরমের যাত্রীদের বিশ্রামাগারের বাথরুমগুলো নষ্ট।