ঢাকা প্রতিনিধিঃ
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সঠিক, তথ্যনির্ভর ও সর্বজনগ্রাহ্য ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। আবেগ নয়, চলবে বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাই আলোচকরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে অনুমান ও বিচ্ছিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তালিকা তৈরির যে প্রবণতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এবার সরকারি নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যের সমন্বয়ে কঠোর যাচাইকরণ নিশ্চিত করা হবে। গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনকে যুক্ত করে মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়। মতবিনিময় সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ওপেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মো. ছিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খানসহ অনেকে মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মন্ত্রণালয় এখন শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে কাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন, একে কলঙ্কমুক্ত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মর্যাদা দিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তালিকা যাচাই-বাছাই করা হবে। এতে করে আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, শুধু পরোক্ষ বা সেকেন্ডারি তথ্যের ওপর নির্ভর না করে অভিজ্ঞদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা পুনর্গঠনের এ উদ্যোগ একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই ধারাবাহিক আলোচনা ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় প্রক্রিয়াটি কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।