গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, আইনি ব্যবস্থার দাবি।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস এবং গণমাধ্যম হলো সেই জনগণের অতন্দ্র প্রহরী ও কণ্ঠস্বর। সাংবাদিকতা পেশায় কোনো ছোট-বড় ভেদাভেদ নেই; এর আসল শক্তি ও মূল্য নির্ধারিত হয় সত্য, ন্যায় এবং বস্তুনিষ্ঠতার মাপকাঠিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকতার পবিত্র পোশাক গায়ে জড়িয়ে কিছু সুবিধাবাদী ও বহিরাগত চক্রের অপকর্ম, চাঁদাবাজি এবং পেশাদার সাংবাদিকদের হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা তীব্র রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে এবং পেশার মর্যাদা রক্ষায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এক জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন এক জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা।সুবিধাবাদী ও দলবদলু চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী চক্রের চেহারাও বদলে যায়। যারা বিগত আওয়ামী লীগের আমলে নির্লজ্জ দালালি ও সুবিধাভোগী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল, তারাই এখন খোলস বদলে বিএনপির আমলে দালালি শুরু করেছে। এরা মূলত কোনো সাংবাদিকই নয়। সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিগত ফায়দা লুটাই এদের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি এই ধরনের এক সুবিধাবাদীকে সাংবাদিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করার অপরাধে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলে, সে উল্টো মূলধারার সাংবাদিক ও সংগঠনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের পাঁয়তারা শুরু করেছে। "এই সব সুবিধাবাদী চাঁদাবাজরা কখনো প্রকৃত সাংবাদিক ছিল না। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করাই ছিল তাদের একমাত্র কাজ। এদের বিরুদ্ধে সকল সংগঠন সটিক ধারার সাংবাদিকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হবে।" গাজীপুরে বহিরাগতদের আনাগোনা ও আইনি পদক্ষেপের আহ্বান গাজীপুরের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, জেলার বাইরে থেকে আসা কিছু বহিরাগত ব্যক্তি সাংবাদিকতার 'ট্যাগ' লাগিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা গাজীপুরের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের দিকে আঙুল তোলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। এই বিষয়ে গাজীপুরের স্থানীয় সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়: সংগঠনগুলোর নিজেদের ভেতর যদি কোনো দুর্বলতা না থাকে, তবে অবিলম্বে এই মিথ্যাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। অপপ্রচার ও গুজবের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে। যদিও আলোচ্য সংগঠনটি একটি জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন এবং সুনির্দিষ্টভাবে গাজীপুর জেলাভিত্তিক নয়, তবুও পেশা ও সংগঠনের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে এ ধরনের অপপ্রচার ও নোংরামি মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।কাউকে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়া ঢালাওভাবে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে অপমান বা হেয় করা যেমন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী, তেমনই সাংবাদিকদেরও নিজেদের আচরণের মাধ্যমে পেশার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনোই সংগঠনের বা সহকর্মীদের বদনাম করতে পারেন না। ব্যক্তি নয়, বরং তার সততা ও ভালো কর্মই তার আসল পরিচয় বহন করে। পরিশেষে, দেশের সকল সৎ ও কলমযোদ্ধা সাংবাদিকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সকল অপশক্তিকে রুখে দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের লড়াইকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলা হয়—"সত্য সব সময় সত্যই হয়। মিথ্যা কখনো টিকে থাকতে পারে না, মিথ্যার ধ্বংস অনিবার্য।"