আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্ত্রী-কন্যা ও পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে কথিত অশালীন ও অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে জরুরি ভার্চুয়াল সভা আহ্বান করেছে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আইনগত প্রতিকার, সম্ভাব্য মামলা এবং আদালতের কাছে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদনসহ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি রুহুল আমিন সৈকত, গ্রাম—সাগরদী, ইউনিয়ন—খিদিরপুর, উপজেলা—মনোহরদী, জেলা—নরসিংদীর বিরুদ্ধে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্ত্রী ও কন্যাদের সম্পর্কে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন। সংগঠনটির মতে, প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। নারী, পরিবার ও ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে—এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো জরুরি। তবে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক বর্জনের প্রস্তাব পর্যালোচনা অভিযোগের প্রতিবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাংগঠনিক ও সামাজিকভাবে বর্জনের একটি প্রস্তাব সংগঠনের কয়েকজন সদস্য উত্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, অভিযোগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত গ্রহণ করে জরুরি সভায় আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদ করি। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বেআইনি সামাজিক নিপীড়ন, হুমকি কিংবা তাঁর মৌলিক অধিকার হরণের পক্ষে নই। শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে প্রতিবাদ এবং সামাজিক বর্জনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হলেও তা অবশ্যই আইন ও মানবিক মর্যাদার সীমার মধ্যে থাকতে হবে।” আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি সভায় অভিযোগের প্রকৃতি, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনের আলোকে সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলা ও অন্যান্য আইনগত প্রতিকারের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হবে। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত আইনগত ভিত্তি থাকলে আদালতের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। জামিন অযোগ্য পরোয়ানার আবেদন করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান, মামলার পরিস্থিতি ও আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের লক্ষ্য প্রতিশোধ গ্রহণ নয়; বরং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
জরুরি ভার্চুয়াল সভার সময়সূচি
তারিখ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাজ্য সময়: সন্ধ্যা ৬টা
বাংলাদেশ সময়: রাত ১১টা
কাতার সময়: রাত ৮টা
সভাপতিত্ব করবেন:
দার্শনিক দেশবন্ধু অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা, প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ।
প্রধান অতিথি: জনাব আহমদ আলী, আহ্বায়ক, আমরা দেশবন্ধু, লন্ডন শাখা। সভা পরিচালনায়: জনাব এম. এ. রউফ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ, কাতার। সভার আলোচ্যসূচিঃ-১. প্রবাসীদের স্ত্রী-কন্যাদের সম্পর্কে অভিযোগিত অশালীন বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো। ২. অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সামাজিক বর্জনের প্রস্তাব পর্যালোচনা। ৩. কথিত বক্তব্যে আহত ও মর্মাহত ব্যক্তিদের মতামত ও বক্তব্য সংগ্রহ। ৪. প্রবাসী সংগঠন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আইনজীবীদের মতামত গ্রহণ। ৫. সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ এবং পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের সদস্য, প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সচেতন প্রবাসী ভাই-বোনদের জরুরি ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় বক্তব্য রাখতে অথবা লিখিত মতামত দিতে আগ্রহীদের সভার আগে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। আমাদের অঙ্গীকার ও নারীর সম্মান রক্ষা করব, অন্যায়ের প্রতিবাদ করব, আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। বিচার চাই, প্রতিশোধ নয়। ঐক্য চাই, বিভাজন নয়।
নিবেদনে,
এম. এ. রউফ
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
International Remittance Juddah Shonshod
ই-মেইল: roufnasrin@gmail.com
যোগাযোগ: 00974 66958035