নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনীতি শব্দটির প্রচলিত ব্যাখ্যায় রাজ্য পরিচালনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির ধারণা তুলে ধরা হয়। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, দেশের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা। কিন্তু রাজনীতিতে যখন জনসেবার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন প্রাধান্য পায়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি সম্পর্কে হতাশা ও অনাস্থা তৈরি হয়। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে রাজনীতির আদর্শিক চেতনা ফিরিয়ে আনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনকল্যাণকে রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাজনীতি হবে আদর্শের, ব্যক্তিস্বার্থের নয় রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা অর্জন কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকা নয়। রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের অধিকার, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং জনসেবার আদর্শ। কিন্তু যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা, নিজের আখের গোছানো কিংবা পকেট ভরার প্রবণতা প্রাধান্য পায়, তখন ব্যঙ্গার্থে অনেকে রাজনীতিকে ‘পেটনীতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। প্রকৃতপক্ষে, রাজনীতির মূল চেতনা হওয়া উচিত জনগণের সেবা করা, দেশের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলা। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি
রাজনীতিতে দুর্নীতি, ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। একইভাবে পেশিশক্তির ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ন্যায়বিচারের অভাব সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। এসব সমস্যা প্রতিরোধে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক পেশা নয়, জনসেবার দায়িত্ব রাজনীতি কেবল পেশাগত পরিচয় কিংবা ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হওয়া উচিত নয়; এটি জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভ যখন বড় হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই রাজনীতিতে নীতিনিষ্ঠা ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব রাজনীতিককে একইভাবে বিচার করা উচিত নয়
সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনসেবা করতে চান। তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। তাই ব্যক্তির কর্মকাণ্ড, সততা, দায়িত্বশীলতা এবং জনকল্যাণে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। রাজনীতির সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে হলে ভালো কাজের স্বীকৃতি, অনিয়মের জবাবদিহি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হোক জনগণের কল্যাণ রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিকের বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য হলো—রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে জনগণকে। ব্যক্তিস্বার্থ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিবর্তে সততা, ন্যায়বিচার, মানবকল্যাণ এবং দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনীতি মানুষের কল্যাণে পরিচালিত হলে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে। তাই রাজনীতির আদর্শিক চেতনা সমুন্নত রাখা এবং জনসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সবার দায়িত্ব।
নিবেদনে: রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিক।