নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমাতে মালয়েশিয়ার আদলে বাংলাদেশেও দ্রুত, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাসপোর্ট সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিত, হয়রানি বন্ধ এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। অথচ পাসপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রিতা, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনে সেবার ধীরগতি এবং বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানির কারণে প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দক্ষতা, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এসব সমস্যার অধিকাংশই সমাধান করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের দ্রুত ও মানসম্মত সেবা দিচ্ছে। মালয়েশিয়ায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হয় এবং যুক্তরাজ্যেও জরুরি পাসপোর্ট সেবা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও আধুনিক ও কার্যকর সেবা চালু করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে কর্মরত একজন প্রবাসী যখন একটি পাসপোর্টের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করেন, তখন তার চাকরি, ভিসা নবায়ন, আয় এবং পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং হয়রানির অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ চার দফা দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো-আন্তর্জাতিক মানের দ্রুত পাসপোর্ট সেবা চালু, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে সময়সীমাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করা, বিমানবন্দরে প্রবাসীবান্ধব ও ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা চালু এবং পাসপোর্ট ও বিমানবন্দর-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর মনিটরিং ও প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিলে বিশ্বের সফল মডেল, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার দ্রুত পাসপোর্ট ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে উন্নত সেবা চালুর লক্ষ্যে তাদের প্রস্তাব ও অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে তারা প্রস্তুত। এদিকে কাতারপ্রবাসী এম. এ. রউফ বলেন, “প্রবাসীদের সম্মান দেওয়া মানে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। তাই দ্রুত, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পাসপোর্ট এবং বিমানবন্দর সেবা নিশ্চিত করাই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পরিচয়।”