এম এ রউফ
কাতার,
বিশ্বের ১৯৫টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একটি চাঁদামুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এম এ রউফ। তিনি বলেন, প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণে নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এম এ রউফ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একাধিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব সভায় তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। সভাগুলোতে ‘প্রবাসী’ পরিচয়ের পাশাপাশি ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ পরিচয়কে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এম এ রউফ বলেন, অতীতে প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণের নামে বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেসব কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় তিনি এমন একটি উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় তিনি নিজেকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর তিনি অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে একটি স্বচ্ছ ও নৈতিক সংগঠন গঠনের আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগতভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনাগ্রহী থাকলেও প্রবাসীদের স্বার্থ বিবেচনায় অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা অস্থায়ীভাবে আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হন।
এম এ রউফ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদকে সম্পূর্ণ চাঁদামুক্ত সংগঠন হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। সংগঠনটি কোনো বাধ্যতামূলক চাঁদা গ্রহণ করে না; বরং সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি আরও বলেন, সংগঠনের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসার বিভিন্ন দার্শনিক চিন্তাধারা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—‘আমারটা আমার, তোমারটা তোমার’, ‘আগে নিজেকে জানুন ও চিনুন’, ‘আগে নিজে বেঁচে থাকুন, তারপর অন্যকে সাহায্য করুন’, ‘আপনার একজন ভালো বন্ধু থাকলে আপনি বিশ্বজয় করতে পারবেন’ এবং ‘Democracy Means Majority’।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এম এ রউফ দেশ-বিদেশের প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সংগঠনকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উদ্দেশ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।