অফিস ডেস্ক :
গোদাগাড়ী উপজেলার একটি শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ আজ ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কুঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়–এর বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে এখানেই চলছে নিয়মিত পাঠদান।
টিনের চালে ছিদ্র, বৃষ্টিতে প্লাবিত শ্রেণিকক্ষ
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের টিনের ছাউনি মরিচা ধরে বড় বড় ছিদ্রে পরিণত হয়েছে। দিনের আলো সেই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কক্ষের ভেতর পানি জমে যায়, পাঠদান কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মাথার ওপর মরা গাছ, ধসের আশঙ্কা
সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য—একটি বিশাল মরা গাছ ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে আছে। গাছের মোটা কাণ্ড ও ডালপালা সরাসরি টিনের চালের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। ফলে যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে ইটের গাঁথুনি বেরিয়ে পড়েছে; কাঠামো নড়বড়ে।
আতঙ্কে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাসে বসে সবসময় তাদের চোখ থাকে ছাদের দিকে। বৃষ্টির সময় বই-খাতা বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। দেয়ালের প্লাস্টার খসে গায়ে পড়ে। মরা গাছটি কখন ভেঙে পড়ে—এই ভয়ে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না।
অভিভাবকদের ক্ষোভ, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন
অভিভাবকদের অভিযোগ, বহুদিন ধরে ভবনের এমন বেহাল দশা থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০০৫ সালে নির্মিত ভবনটি মাত্র দুই দশকেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নির্মাণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।
স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত ব্যবস্থা নিন
এলাকাবাসীর দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
শিক্ষার আলো জ্বালাতে গিয়ে যেন মৃত্যুঝুঁকির মুখে না পড়ে শিশুরা—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।