অফিস ডেস্ক:-
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো সংবেদনশীল মামলার বাদীকে প্রকাশ্যে রাজপথে গতিরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে। মামলার আসামী গ্রেফতার হওয়ার পরও আসামির লোকজনের এমন কর্মকাণ্ড ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন ভুক্তভোগী নারী।
শুক্রবার (০৫ জুন) সকালে নিরাপত্তা চেয়ে ত্রিশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
মামলার নথি ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামী মোঃ শামীম বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
অভিযোগে রয়েছে, আসামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ইমাম মেহেদী শ্যামল (৩৮) নামের এক ব্যক্তি এবং তার নেতৃত্বে আসামির লোকজন বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানামুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
বাদী অভিযোগ করেন, বিবাদীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার কল করে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। গত ৩১ মে দুপুর ৩টার দিকে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইউনাইটেড বাস কাউন্টারের সামনে ভুক্তভোগীকে গতিরোধ করে ইমাম মেহেদী শ্যামল ও তার অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন সহযোগী। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বিবাদীগণ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী আরো বলেন, আইনের আশ্রয় নিয়ে আমি আজ আসামীদের লোকজনের রোষানলে পড়ে আছি। প্রকাশ্যে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয়দের মতে, বিচারাধীন মামলার বাদী বা স্বাক্ষীদের হুমকি প্রদান আইনের চরম অবমাননা এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত বিবাদীদের আইনের আওতায় না আনলে ন্যায়বিচার চরমভাবে ব্যাহত হবে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।