নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ এলাকায় মাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদান এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক কাউন্সিলর আমজাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন মাইদুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাত গভীর হলে তার অনুসারীরা মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করত। পাশাপাশি এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আগাম তথ্য অসাধু ব্যক্তিদের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যেত বলে তাদের ধারণা। ফলে অভিযানের পূর্বেই মাদক কারবারিরা এলাকা ত্যাগ করত এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কারবারিদের পরিবর্তে মাদকসেবীরা গ্রেপ্তার হতো বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাইদুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাইদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের মতামত পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাতাইশ এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।