ডেস্ক রিপোর্টঃ
বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে এক মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছেন তার পিতা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি সুনামগঞ্জের ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ঘটেছে।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় অভিযুক্ত মানব পাচারকারীকে আটক করে তরুণীকে উদ্ধার করা হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
উদ্ধার হওয়া তরুণীর নাম সুমনা বেগম। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাসিন্দা। তার পিতা সমুজ আলী। আটক অভিযুক্ত সিজুল মিয়া জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি আদম ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভালো বেতনে বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সুমনা বেগমকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান সিজুল মিয়া। তবে বিদেশে পাঠানোর পরিবর্তে তাকে একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর টানা ৯ দিন মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
একপর্যায়ে মেয়ের সন্ধানে নিজেই মাঠে নামেন পিতা সমুজ আলী। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি অভিযুক্ত সিজুল মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ছাতক এলাকায় তাকে আটক করা হয়।
আটক সিজুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর উপজেলার একটি নির্জন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় সুমনা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র সমুজ আলীর সাহসিকতার প্রশংসা শুরু হয়। স্থানীয়দের মতে, একজন সাধারণ পিতা হিসেবে নিজের সাহস, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তিনি যেভাবে মেয়েকে উদ্ধার করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সিজুল মিয়াকে আটকে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।