মোঃ নয়ন মিয়া
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক ধান ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে আটক করে মারধর এবং নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই নয়,বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত একটি অপহরণচেষ্টা ও ডাকাতি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার ৬নং জোতবানী ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জহির (৬৫) বিরামপুর থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে মোঃ নাজিম হোসেন (৩০)পেশায় একজন ধান ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল এবং একাধিকবার হুমকি-ধমকির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পত্রে বলা হয়,গত ১২ মে ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে নাজিম হোসেন ধান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে কচুয়া মির্জাপুর গ্রামের দিকে রওনা দেন। পথিমধ্যে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি পৌঁছালে কচুয়া মির্জাপুর গ্রামের অভিযুক্ত হামিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে।
এরপর তাকে জোরপূর্বক বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি ভয়ভীতি দিয়ে আসছিল। অভিযোগে আরও বলা হয় গত ১২ মে সকাল আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে নাজিম হোসেন ধান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে কচুয়া মির্জাপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্ত হামিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে কয়েকজন মিলে তাকে জোর পূর্বক বাড়ির ভিতরে নিয়ে নির্যাতন করেন। সেখানে তার হাত-পা চেপে ধরে পকেটে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রশি দিয়ে বেঁধে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার মাথা,মুখ, পাজর,উরু ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয় বলে দাবি করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী,কিছু সময় পর ঘটনাটি জানাজানি হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নাজিমকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে কচুয়া মির্জাপুর ও টেগরা গ্রামের মোট ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন হামিদুল ইসলাম, আহসান হাবীব,লিমন,জান্নাতুন,নূর আলম এবং কামরুল হাসান ওরফে চঞ্চল। ভুক্তভোগী পরিবার আরও দাবি করেছে,অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি। বরং তারা সাক্ষীদের সামনে পুনরায় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। প্রকাশ্য দিবালোকে বা ভোরের দিকে এ ধরনের হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার সূত্র জানায়,লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন,দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।