গাজীপুর কোনাবাড়ীতে মুরগি ব্যবসায়ীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গাজীপুর কোনাবাড়ীতে মুরগি ব্যবসায়ীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাজীপুর

“রক্ষক যখন ভক্ষক”—প্রচলিত এই প্রবাদ যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকার জরুন বাজারে। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন দুই মুরগি ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, প্রায় ২৯ বছর ধরে মিলন সরকার ও রতন ভূঁইয়া যৌথভাবে কোনাবাড়ীর জরুন বাজারে পাইকারি ও খুচরা মুরগির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসার কাজে সহায়তার জন্য রতন ভূঁইয়ার শ্যালক জাফর খানকে দোকানে রাখা হয়। তাকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হতো।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসার মালিকরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে দোকানের আর্থিক লেনদেনের দায়িত্বে থাকা জাফর খান ধীরে ধীরে প্রতারণার আশ্রয় নেন। ব্যবসার টাকা মালিকদের ব্যাংক হিসাবে জমা না করে নিজের হিসাবে রাখতেন তিনি। প্রতিবছর ব্যবসায় লোকসান দেখানো হলেও বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেননি মালিকরা।

সম্প্রতি জাফর খানের আচরণে সন্দেহ দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে সাত বছরের হিসাব নিয়ে বৈঠকে বসেন দুই ব্যবসায়ী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সেখানে জাফর খান স্বীকার করেন, তার কাছে ব্যাংকে ১৩ লাখ টাকা এবং বাসায় আরও ৭ লাখ টাকা নগদ রয়েছে। পরে টাকা এনে দেওয়ার কথা বলে বাসায় গেলেও আর ফিরে আসেননি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নগদ টাকা ও তিনটি ব্যাংকের চেকবই নিয়ে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, গত সাত বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন জাফর খান। তিনি নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার মৃত জিয়াউর রহমানের ছেলে।

পার্শ্ববর্তী দোকানদার বিল্লাল হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সে দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছে। পরে শুনি, সে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছে।”

মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা সমাধানের জন্য বসেছিলাম। কিন্তু টাকা দেওয়ার কথা বলে বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিলন সরকার বলেন, “আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে কর্মচারী জাফর খান। আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন জানান, এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *