অফিস ডেস্ক :
গত এক মাসে অন্তত ১৯ বার রেলওয়ের সিগন্যাল সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে সিগন্যালের তার কেটে নেওয়ার ঘটনায়। এতে করে জনপ্রিয় আজমপুর রেলস্টেশন কার্যত বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, আজমপুর স্টেশনকে কেন্দ্র করে সিগন্যালের তার চুরির পেছনে বড় ধরনের রহস্য রয়েছে। তাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে সমঝোতা করে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে নিয়মিত অবৈধ মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাতে নন-স্টপ স্টেশন ও স্টপেজ ট্রেনগুলো ম্যানুয়ালি (হাতে পাইলটিং) চালাতে হয়। এতে ট্রেন চলাচলে সময় বেশি লাগায় সহজেই অবৈধ মালামাল ওঠানো-নামানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যবহার করেই এই কাজ নিয়মিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের একেবারে শেষ প্রান্তে একটি এসএলআর বা মালবগি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এটি বন্ধ থাকার কথা থাকলেও, মুকুন্দপুর স্টেশন পার হওয়ার পর সেটি খুলে দেওয়া হয়। আজমপুর অতিক্রম করার সময় বগিটি উভয় পাশ থেকে খোলা থাকে এবং পরে বাইপাসে প্রবেশের আগেই আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি মালামাল ওঠানোর নিয়ম থাকে শুধুমাত্র সিলেট স্টেশন থেকে, তবে মাঝপথে রেলস্টাফরা কেন এই বগি খুলে দিচ্ছেন? বিষয়টি যে উদ্দেশ্যমূলক, তা সহজেই অনুমেয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গতকাল আজমপুর এলাকায় স্থানীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে রেল প্রশাসনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকের ঠিক সেই রাতেই আবারও সিগন্যালের তার কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন সবকিছু জানলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।