কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট মোঃ মনিরের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালে উত্থাপিত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন ভাতাভোগী। এ বিষয়ে এশিয়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সাল থেকে তাড়াইল উপজেলায় এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মোঃ মনির। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসছেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তাদের জানা মতে, এর আগে মোঃ মনিরের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সম্প্রতি বিভিন্ন ভাতাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমস্যা দেখা দেওয়ায় মোঃ মনিরের অফিসে গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে। অনেক গ্রাহককে একটি কাজ সম্পন্ন করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনো ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা, আবার কখনো ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সার্ভার জটিলতার কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে একজন ব্যাংক এজেন্টের পক্ষে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কয়েকজন ভাতাভোগী বলেন, “মনির ভাই দীর্ঘ সাত বছর ধরে আমাদের সেবা দিয়ে আসছেন। আমরা তার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার ও সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে কখনো তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। গ্রাহকের চাপ বেশি থাকলে কাজ সম্পন্ন করতে দেরি হতেই পারে। ইন্টারনেট বা সার্ভার সমস্যা হলে একজন এজেন্টের পক্ষে কী করার থাকে?” তাদের মতে, প্রযুক্তিগত সমস্যা ও অতিরিক্ত গ্রাহকের চাপের কারণে সৃষ্ট বিলম্বকে ব্যক্তিগত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন। এলাকাবাসীর দাবি, মোঃ মনিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এশিয়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে হয়রানি কিংবা ভিত্তিহীন অভিযোগের শিকার হবেন না।