রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধভাবে চোরাচালানী মালামাল, মাদকদ্রব্য কিংবা অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যগণ কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা বৃদ্ধি করে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০২০০ ঘটিকায় রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর অধিনস্থ চারঘাট বিওপি’র আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, চারঘাট থানাধীন মুক্তারপুর নামক এলাকার পদ্মা নদীর চর দিয়ে মাদকদ্রব্যের একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি’র আভিযানিক দল তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেলে মাদক কারবারীরা বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরক্ষনে টহল দল কাউকে দেখতে না পেয়ে আশেপাশে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে বস্তা দেখতে পায়ে এবং বস্তাটি খুললে তার মধ্য হতে ১০১ বোতল ভারতীয় মদ (মালিকবিহীন) জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য চারঘাট থানায় জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। একই দিনে রাত্রি আনুমানিক ০৩৪৫ ঘটিকায় অত্র ব্যাটালিয়ন এর অধিনস্থ আলাইপুর বিওপি’র নিয়মিত টহল দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বাঘা থানাধীন গোকুলপুর নামক এলাকা দিয়ে কিছু মাদক কারবারী অবৈধ ভাবে মাদক দ্রব্যের একটি চালান পাচার করবে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে আলাইপুর বিওপি’র টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আম বাগানের মধ্যে ওৎ পেতে থাকে। দীর্ঘসময় ওৎ পেতে থাকার টহল দল দেখতে পায় যে, একজন মাদক কারবারী মাথায় বস্তা নিয়ে আম বাগানের দিকে আসছে। তৎক্ষণাৎ তাকে ধরার জন্য ধাওয়া করলে মাদক কারবারী নিকট থাকা বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি’র আভিযানিক দল কর্তৃক বস্তাটি তল্লাশী করে ৩৬ বোতল ভারতীয় মদ এবং ৫,০০০ পিস ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স (মালিকবিহীন) জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য বাঘা থানায় এবং অন্যান্য মালামাল রাজশাহী শুল্ক অফিসে জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও অদ্য ০৪৩০ ঘটিকায় অত্র ব্যাটালিয়ন এর অধিনস্থ তালাইমারী বিওপি’র আভিযানিক দল নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মতিহার থানাধীন জাহাজ ঘাট নামক এলাকার নদীর ঘাটে কিছু চোরাচালানী মালামাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে লুকানো অবস্থায় আছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি’র আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কাউকে দেখতে না পেয়ে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে আভিযানিক দল মাটিতে লুকানো অবস্থায় একটি ছোট ব্যাগের মধ্যে হতে ১০,০০০ পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স (মালিকবিহীন) জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত মালামাল রাজশাহী শুল্ক অফিসে জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদেরকে শনাক্তকরণ এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিজিবি কর্তৃক গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।